শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:৪৬, ০৩-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (২ নভেম্বর) রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
তানিয়া খাতুন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খালকুলা গ্রামের মোহন মল্লিকের মেয়ে। তিনি রিলায়েন্স জেনারেল অ্যান্ড রেনাল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে পারিবারিক সম্মতিতে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সাখাওয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তানিয়াকে স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে জমা রাখার জন্য স্বামী সাখাওয়াত হোসেন তানিয়াকে ছয় লাখ টাকা দেন। তবে ওই টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে তানিয়া নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সাখাওয়াত।
এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি সাখাওয়াত হোসেন রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এরপর তানিয়া আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন নেন। তবে আপস না হওয়ায় সোমবার নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সাখাওয়াত হোসেন তানিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৬ দিন পর জামিনে মুক্তি পান তানিয়া। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
বাদী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সুন্দর একটি সংসারের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানা অশান্তি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের অনেক চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই যৌতুক ও অর্থ আত্মসাতের আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের তদন্তের পর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে আপসের শর্তে জামিন নেন। বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। লিগ্যাল এইডের মাধ্যমেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি বাদীর সঙ্গে সংসার করতে রাজি না হওয়ায় এবং মীমাংসা কার্যকর না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এমপি/ আরআই