শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:৪৪, ০৩-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
জানা গেছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসকের ৩৬টি পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। এ ছাড়া নার্স, মিডওয়াইফ, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পদেও জনবলসংকট রয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শুভেন্দু শেখর দাশ জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগে আসেন ৯০ থেকে ১০০ জন। আর গড়ে ভর্তি থাকেন ৫৫ থেকে ৬০ জন রোগী। চিকিৎসকসংকটের কারণে এত রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন প্রসূতি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের জন্য আসেন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাদের নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জে গিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এতে প্রত্যেকের খরচ হয় ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম কক্ষে তালা ঝুলছে। অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম অব্যবহৃত পড়ে আছে। হাসপাতালে ভর্তি ৪১ জন রোগীর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন নয়জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন। ডায়রিয়া রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় বারান্দায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকেও চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।
হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবীর সরকার বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় জোড়াতালি দিয়ে সেবা চালাতে হচ্ছে। এক্স-রে যন্ত্র থাকলেও জনবল না থাকায় সেবা বন্ধ। আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি প্রায় এক মাস ধরে বিকল। এটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইসিজি করারও প্রয়োজনীয় জনবল নেই।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, জনবলসংকট সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসেই লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এমপি/ আরআই