ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

১৯ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ময়লার স্তূপে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অচল যশোরের বর্জ্য প্ল্যান্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১:৫৯, ০৩-১১-২০২৬

ময়লার স্তূপে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অচল যশোরের বর্জ্য প্ল্যান্ট

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

যশোরে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টটি চালুর আট বছর পরও কার্যকর হয়নি। বাসাবাড়ির বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে প্ল্যান্টজুড়ে জমেছে পাহাড়সম ময়লা-আবর্জনা। এতে পরিবেশদূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

২০১৮ সালে শহরতলির হামিদপুরে প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২১ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্য স্কেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি করে পৌরসভা। তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ ও সেগুলো যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করার কার্যক্রম নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার বর্জ্য দিয়ে সার তৈরির পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানটি বাইরে থেকে গোবর ও মুরগির বিষ্ঠা এনে সার উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এসিআইয়ের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এসব উপাদান দিয়ে সার তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে পৌরসভার সংগৃহীত বর্জ্য প্ল্যান্টের খোলা জায়গায় জমে থাকছে। এতে দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ।

যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, প্ল্যান্টে পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। উৎপাদিত বায়োগ্যাস দিয়ে প্ল্যান্টের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের কথাও ছিল। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগের বিষয়ে দ্য স্কেট লিমিটেডের সিইও নাহিদ আলম বলেন, নানা জটিলতায় প্ল্যান্টের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জৈব সার উৎপাদন হলেও তা সঠিকভাবে বাজারজাত করা যাচ্ছে না। পৌরসভার অসহযোগিতার কারণে এসিআইয়ের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহও সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সমাধানে মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি প্ল্যান্টটি পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় অব্যবস্থাপনা ও স্থবির কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্ল্যান্টটি যেভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে সেভাবে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। দ্রুত প্ল্যান্টটি থেকে সুফল পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, প্ল্যান্ট পরিচালনায় কিছু অনিয়মের বিষয় নজরে আসায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে জানানো হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নিজস্ব লোকবল দিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করতে পারেনি। একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কার্যক্রম নিশ্চিত হয়নি।

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন