শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৫৪, ০৩-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা: আব্দুল হাকিম ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ক্লিনিকের মালিক পক্ষের কাউকে উপস্থিত না পেয়ে ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওশাদ আলম ও সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের উপস্থিতিতে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।
এর আগে, সোমবার সকালে শহরের সাপটানা এলাকার ওই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর আদরী বেগমের মৃত্যু হয়। পরে তাকে রংপুরে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার সিজারিয়ান অপারেশন করে। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।
নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
স্বজনদের তথ্যমতে, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে আদরী বেগমকে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রংপুর অথবা অন্য কোনো ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেয়। পরে বিজলী নামের এক নারীর পরামর্শে তাকে শহরের নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়।
লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা: আব্দুল হাকিম জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে ক্লিনিকটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমপি/ আরআই