ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

৫ কার্তিক ১৪৩৩, ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:১৬, ২০-১০-২০২৬

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস আজ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

আজ (২০ অক্টোবর) বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস। হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, সময়মতো শনাক্তকরণ ও কার্যকর চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘বিল্ড, প্রোটেক্ট, স্ট্রেংথেন ইয়োর বোন্‌জ ফর লাইফ’। শৈশব থেকে বার্ধক্য—জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই হাড়ের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিপাদ্যে।

অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ, যাতে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে গিয়ে হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য আঘাত, পড়ে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজের সময়ও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না। অনেকেই হাড় ভেঙে যাওয়ার পর প্রথমবার জানতে পারেন যে তারা এ রোগে আক্রান্ত।

এদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের এ ঝুঁকি বেশি। তবে পুরুষেরাও এ রোগে আক্রান্ত হন। পারিবারিক ইতিহাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, ধূমপান এবং কিছু ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে মেরুদণ্ডের হাড়ে চিড় বা ভাঙন, উচ্চতা কমে যাওয়া, পিঠ বাঁকা হয়ে যাওয়া এবং সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শে বোন মিনারেল ডেনসিটি (বিএমডি) পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, মেনোপজ-পরবর্তী নারী এবং আগে সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙেছে—এমন ব্যক্তিদের ঝুঁকি মূল্যায়ন জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাড় ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ছোট মাছ, শাকসবজি, ডাল এবং ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন। ভিটামিন ডি হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা, ওজন বহনকারী ব্যায়াম ও পেশি শক্তিশালী করার শরীরচর্চা হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এ ছাড়া ধূমপান পরিহার, পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বয়স্কদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও পিচ্ছিলমুক্ত মেঝের ব্যবস্থা করা জরুরি। অস্টিওপোরোসিস শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, পুষ্টি ও ব্যায়ামের সমন্বয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। নিজের সিদ্ধান্তে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি বা অন্য কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়।

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবসের মূল বার্তা হলো, হাড়ের যত্নে বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ছোটবেলা থেকেই সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা। সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগে হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমানো এবং দীর্ঘদিন চলাফেরার সক্ষমতা ও জীবনমান বজায় রাখা সম্ভব।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন