ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বরগুনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ, মশারি ব্যবহার না করায় বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:২৮, ২১-১০-২০২৬ | আপডেট: ২:২৯, ২১-১০-২০২৬

বরগুনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ, মশারি ব্যবহার না করায় বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

বরগুনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় গত এক সপ্তাহে নতুন করে ২৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩০ জনে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক রোগী মশারি ব্যবহার না করায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে ভর্তি হওয়া ২৩৮ জনের মধ্যে ১৬২ জন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এবং বাকি ৭৬ জন জেলার অন্য পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অথচ হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে ৫০টি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, অনেক রোগী মশারি ছাড়াই শয্যায় অবস্থান করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিলেও অনেকে তা মানছেন না।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৫০টি শয্যা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৬৩ জন। রোগীদের বারবার মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই তা মানছেন না, যা উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কোনো মশা কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তাই হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন রোগী জানান, প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরীক্ষা করানোর পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার কামড় এড়িয়ে চলা, মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

এদিকে, জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চিত্র সংক্রমণের বাড়তি চাপ তুলে ধরছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি মশারি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন