ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সিএসএলের নতুন সিইও হচ্ছেন জিএসকের ডেবোরা ওয়াটারহাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭:২৫, ২১-১০-২০২৬

সিএসএলের নতুন সিইও হচ্ছেন জিএসকের ডেবোরা ওয়াটারহাউস

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

অস্ট্রেলিয়ার বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান সিএসএলের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ডেবোরা ওয়াটারহাউসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জিএসকের এই শীর্ষ নির্বাহী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেবেন। তিনি হবেন সিএসএলের ইতিহাসে প্রথম নারী সিইও।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ থেকে ওয়াটারহাউসের নিয়োগ কার্যকর হবে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সিইও গর্ডন নেইলরের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সিএসএলের সদর দপ্তর অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে হলেও ওয়াটারহাউস যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর কমে যাওয়া এবং আয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক সিইও পল ম্যাকেঞ্জি পদত্যাগ করেন। এরপর কয়েক মাস ধরে নতুন প্রধান নির্বাহী খোঁজার প্রক্রিয়া চলে।

একসময় অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারের সবচেয়ে মূল্যবান তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল সিএসএল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আয় ও রাজস্বের পূর্বাভাস একাধিকবার কমানো এবং ৩ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য থেকে কয়েক শ কোটি ডলার কমে যায়।

তবে ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে। গত জুনে এক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

সিএসএলের চেয়ারম্যান ব্রায়ান ম্যাকনামি জানান, প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক অগ্রগতিকে এগিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়াটারহাউসের রয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের গতি ধরে রাখা, নতুন ওষুধের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং পরিচালনব্যবস্থা সহজ করার ক্ষেত্রে তার দক্ষতার ওপর আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ওয়াটারহাউস বর্তমানে ভিআইভি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটি জিএসকের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন একটি যৌথ উদ্যোগ। পাশাপাশি তিনি জিএসকের গ্লোবাল হেলথ বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জিএসকের যুক্তরাষ্ট্রের টিকা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মহাব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সিটি গ্রুপের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বৈশ্বিক ব্যবসা পরিচালনায় ওয়াটারহাউসের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে, গ্লোবাল এক্স ইটিএফসের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ মার্ক জোকুমের মতে, শেয়ারের দর পুনরুদ্ধারকে টেকসই মুনাফা বৃদ্ধিতে রূপান্তর করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বাজারকে আশ্বস্ত করাই হবে নতুন সিইওর বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২৬ অর্থবছরে সিএসএল কর-পরবর্তী ২৬০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার লোকসান করেছে। ১৯৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এটাই প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বার্ষিক লোকসান। সুইজারল্যান্ডের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভিফোরকে ২০২২ সালে অধিগ্রহণের কারণে সৃষ্ট অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন কারণে ৭১০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদমূল্য কমানোর হিসাব এ লোকসানের প্রধান কারণ।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন