ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৬ কার্তিক ১৪৩৩, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নাইজেরিয়ায় আবারও শনাক্ত ইবোলা ভাইরাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫:৫১, ২১-১০-২০২৬

নাইজেরিয়ায় আবারও শনাক্ত ইবোলা ভাইরাস

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় পর আবারও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত আফ্রিকার চতুর্থ দেশ হলো নাইজেরিয়া। দেশটিতে শনাক্ত রোগী উগান্ডার এক নারী।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় আসার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ওই নারীর শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়।

নাইজেরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের কর্মকর্তা ওদিয়ানসেন এহিয়াখামেন জানান, ওই নারী গত ৫ অক্টোবর ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা হয়ে আবুজায় পৌঁছান। দুই দিন পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। ১১ অক্টোবর ম্যালেরিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে আবুজার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। তবে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে তিনি সম্প্রতি ইবোলার প্রাদুর্ভাব থাকা উগান্ডায় ভ্রমণ করেছিলেন বলে জানতে পারেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এরপর ১৯ অক্টোবর তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মঙ্গলবার পরীক্ষায় ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।

কর্তৃপক্ষ ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ৪৪ জনকে শনাক্ত করেছে। তাদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যকর্মী। তালিকায় রয়েছেন তার স্বামীও, যিনি সুইজারল্যান্ডের নাগরিক এবং আবুজায় তার সঙ্গে বসবাস করেন। একই বিমানে ভ্রমণ করা অন্য যাত্রীদেরও শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে কর্মকর্তাদের ধারণা, বিমানে ভ্রমণের সময় ওই নারীর মধ্যে রোগের উপসর্গ ছিল না।

নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলী পাতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনটিএকে জানিয়েছেন, ওই নারীকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কঙ্গো থেকে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নারী কঙ্গো ভ্রমণ করেছিলেন। দেশটির আটটি প্রদেশে ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। তবে কঙ্গোর ঠিক কোন এলাকায় ওই নারী অবস্থান করেছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করলেই সংক্রমণ সেখানে ঘটেছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। বর্তমানে উগান্ডায় ইবোলার কোনো সক্রিয় রোগী নেই। মে ও জুন মাসে দেশটিতে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, যাদের অধিকাংশই কঙ্গো থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন। আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে।

চলতি মাসের শুরুতে কেনিয়ায়ও প্রথম ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়। কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে আসা ওই যাত্রীর মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ায়। পরে দেশটিতে আরও আটজন আক্রান্ত হন। সব মিলিয়ে কেনিয়ায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে, যারা সবাই প্রথম রোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা

গত মে মাসে কঙ্গোতে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বর্ণনা করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের ধরনটিতে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। এ ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের মহাপরিচালক জ্যঁ কাসেয়া বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘ইবোলা এখন আফ্রিকার তিনটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাতে বলেন, ২০১৪ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার প্রাদুর্ভাবের সময় দেশটি সফলভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করেছিল। নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সক্ষমতা রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

২০১৪ সালের ওই প্রাদুর্ভাব ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইবোলা সংক্রমণ। নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ভুল তথ্যের বিস্তার ও অর্থায়নের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন