শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২:০৩, ০২-১১-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘রক্তদানে জীবনের জয়গান, চক্ষুদানে আলোর সন্ধান’।
মন্ত্রী বলেন, শুধু সেমিনার আয়োজন করে রক্তদান কর্মসূচির গতি বাড়ানো সম্ভব নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে, রক্তদান করলে দাতার শারীরিক ক্ষতি হয় না; বরং এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও রক্তদান একটি মহৎ কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মানুষের জীবন বাঁচানো অনেক বড় দান। রক্তদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন রক্ষা করা পরকালের জন্যও সওয়াবের কাজ। তাই এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে।
থ্যালাসেমিয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, যা রোগী ও পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির কারণ। এ কারণে বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রক্তের চাহিদা ও সংকট কমাতেও ভূমিকা রাখবে। রক্তের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা ও কর্মসূচি গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সন্ধানীর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রক্ত সংগ্রহের জন্য যেসব প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে। তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সন্ধানীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা: সাঈদ মেহেবুব উল কাদির, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী প্রমুখ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন অর রশীদ, মহাসচিব ডা: মো. জাহিদুল ইসলাম শাকিল, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা: মো. ফজলুল হক কাশেম, মহাসচিব ও উদযাপন উপকমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ।
এমপি/ আরআই