শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬:৪৪, ২৫-০৭-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
ঢাকায় বর্তমানে ওয়াসার ৩৫২টি বিশুদ্ধ পানির এটিএম বুথ রয়েছে। এসব বুথ থেকে ৮ লাখেরও বেশি গ্রাহক প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ লিটার পানি সংগ্রহ করেন। পান করা, রান্না কিংবা শিশুদের খাবার তৈরিসহ নিত্যদিনের নানা কাজে ব্যবহৃত এই পানির মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুইডেনের উমেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় ওয়াসার বিভিন্ন জোন থেকে সংগ্রহ করা পানির নমুনায় ‘পিফাস’-এর পাশাপাশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন ওষুধজাত রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর আগে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিইএনের গবেষণাতেও একই ধরনের তথ্য উঠে আসে। ওই গবেষণার নমুনা যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিসহ আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে উচ্চঝুঁকির পিএফওএ, পিএফওএস এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ কিছু ‘পিফাস’ যৌগ শনাক্ত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পিফাস’কে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’ বলা হয়, কারণ এটি সহজে পরিবেশে নষ্ট হয় না এবং মানবদেহেও দীর্ঘ সময় ধরে জমা থাকতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এ রাসায়নিকের প্রভাবে লিভার ও কিডনির ক্ষতি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
ইএসডিওর গবেষক ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ওয়াসার পানিতে এই রাসায়নিকের উৎস চিহ্নিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তার মতে, দূষণের উৎস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরীক্ষাগারে ইউরোপীয় মানের যন্ত্রপাতি দিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে দ্রুত দূষণের উৎস অনুসন্ধান, নিয়মিত মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এমপি/ আরআই