শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১:২১, ১১-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (১০ অক্টোবর) ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডা: মিলন হলে আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এ আহ্বান জানান। ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী বলেন, স্তন ক্যান্সার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ সময় লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ অবস্থায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সীমিত সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার করে অধিকসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার এপিডেমিওলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডা: হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়টি উঠে আসছে, যা আশাব্যঞ্জক।
তিনি সরকারি পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সংলাপে আরও অংশ নেন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বিএমইউর গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সাবেরা খাতুন ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্রের (সিসিপিআর) চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের প্রমুখ।
সংলাপ শেষে একটি গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয় এবং সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এমপি/ আরআই