শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭:৩৪, ০৩-০৯-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সম্প্রতি নেচার নিউরোসায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় ওসিডি ও দীর্ঘস্থায়ী টিক ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার মানুষের ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, শনাক্ত হওয়া অনেক জিনই ওসিডি ও দীর্ঘস্থায়ী টিক ডিসঅর্ডার—উভয় রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে টুরেট সিনড্রোমও রয়েছে। এসব জিন মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট জৈবিক পথ এবং স্নায়ুকোষের মধ্যে রাসায়নিক সংকেত আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গবেষণাটির সহলেখক রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জে টিশফিল্ড বলেন, “এখন আমাদের কাছে ৩০টির বেশি সম্ভাব্য লক্ষ্য রয়েছে, যা চিকিৎসা উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”
গবেষকদের মতে, এসব জিন আলাদাভাবে কাজ করে না; বরং বিভিন্ন জিনের নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু নির্দিষ্ট উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রোগের অন্তর্নিহিত জৈবিক প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে ওষুধ তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
গবেষণায় শনাক্ত কয়েকটি জিনের সঙ্গে অটিজম ও সিজোফ্রেনিয়ারও সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এতে বিভিন্ন মানসিক রোগের পেছনে মস্তিষ্কের বিকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু অভিন্ন জৈবিক পরিবর্তন ভূমিকা রাখতে পারে—এমন ধারণার পক্ষে আরও প্রমাণ মিলেছে।
একই প্রতিবেদনে ফ্যাটি লিভার রোগ নিয়ে আরেকটি গবেষণার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, লিভার কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকা ইএফএইচডি১ নামের একটি প্রোটিন অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ইএফএইচডি১-এর কার্যক্রম বন্ধ বা কমিয়ে দিলে ইঁদুর ও মানব লিভারের ক্ষুদ্র মডেলে প্রদাহ এবং লিভারে ক্ষত তৈরির মাত্রা প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে। এ প্রোটিনকে লক্ষ্য করে ওষুধ তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
এমপি/ আরআই