ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

গবেষণা

উপকূলের পানিতে লবণাক্ততা, বাড়ছে হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:১৬, ২৫-০৮-২০২৬

উপকূলের পানিতে লবণাক্ততা, বাড়ছে হৃদরোগ-স্ট্রোকের ঝুঁকি

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের খাবার পানিতে উচ্চমাত্রার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত পানি ব্যবহারের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদরোগ ও স্ট্রোকের বাড়তি ঝুঁকির প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকরা।

গতকাল (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআর, বি আয়োজিত ‘পানীয় জলের লবণাক্ততা ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: বাংলাদেশের প্রমাণ ও নীতিগত সুপারিশ’ শীর্ষক সেমিনারে গবেষণার এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণায় খুলনার কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার ১৭২টি গ্রামের ২৭ হাজার ৬৯৭টি পানির উৎস পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০৩টি বা ২৪ দশমিক ২ শতাংশ উৎস খাবার পানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এসব উৎসের মধ্যে কয়রায় ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৩ শতাংশে লবণাক্ততা পাওয়া গেছে।

গবেষণার আরেক অংশে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি ১৫ হাজার ৪৭১ জনের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজনের (২১ দশমিক ৬ শতাংশ) আগামী ১০ বছরে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। কয়রায় এ হার ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আশাশুনিতে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আইসিডিডিআর, বি-এর সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডা: আলিয়া নাহিদ বলেন, উপকূলীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের পানিই এখন ক্রমশ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে। পানির মাধ্যমে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গর্ভবতী নারীরাও এতে বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপদ ও কম লবণাক্ত খাবার পানি নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় কমিউনিটি রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং, পণ্ড স্যান্ড ফিল্টার ও টিউবওয়েল স্থাপন, পানির উৎসের ডিজিটাল রেজিস্ট্রি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের স্ক্রিনিং, চিকিৎসা ও ফলো-আপ কার্যক্রম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে অ্যালগরিদমভিত্তিক ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম ব্যবহারের কথাও জানানো হয়।

সেমিনারে ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পাওলো ভিইনিস বলেন, খাবার পানির লবণাক্ততার জন্য এখনো সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যভিত্তিক মাত্রা নির্ধারিত হয়নি। পানিতে থাকা সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত নির্দেশিকা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

গবেষকরা জানান, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় এলাকায় পুকুর ও অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির উৎসে দীর্ঘমেয়াদি লবণাক্ততা তৈরি হতে পারে। তাই দুর্যোগের পর দ্রুত পানির উৎস পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার, পোল্ডার ও বাঁধের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলো উঁচু করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সেমিনার থেকে পানির গুণগতমান পর্যবেক্ষণ, সোডিয়ামের স্বাস্থ্যভিত্তিক নির্দেশিকা প্রণয়ন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়, পানির উৎসের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ পানির কার্যক্রমকে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে একীভূত করার আহ্বান জানানো হয়।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন