ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

নোবিপ্রবি মেডিকেলে পানি সংকট, ভোগান্তিতে চিকিৎসক-নার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২:১৮, ০৪-১১-২০২৬

নোবিপ্রবি মেডিকেলে পানি সংকট, ভোগান্তিতে চিকিৎসক-নার্স

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে কয়েকদিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চিকিৎসক ও নার্সরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে পানির অভাবে ওয়াশরুম ও টয়লেট ব্যবহার করতে না পারায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন তলা বিশিষ্ট মেডিকেল সেন্টারটির প্রতিটি তলার ওয়াশরুম ও টয়লেটে পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনেও ওয়াশরুম ব্যবহার করতে পারছেন না সেবাপ্রার্থী ও দায়িত্বরত কর্মীরা। পাশাপাশি পুরো ভবনের ওয়াশরুম ও টয়লেটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থাও নাজুক। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনরত নারী চিকিৎসক ও নার্সরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

মেডিকেল সেন্টারের কর্মচারীরা জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাত থেকে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরকে জানানো হলেও সপ্তাহান্তের ছুটির কারণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। পরে রোববার প্রাতিষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে জানানো হলে মেকানিক এসে নষ্ট মোটরটি মেরামতের জন্য নিয়ে যান।

এদিকে, মেডিকেল সেন্টারের পাশে অবস্থিত ‘শান্তিনিকেতন’-এর বিভিন্ন টং দোকানে মেডিকেল ভবন থেকে অবৈধভাবে পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর ফলে প্রায়ই মেডিকেল সেন্টারে পানির সংকট দেখা দেয়।

মেরামত বিলম্বের বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) শান্ত মজুমদার বলেন, ‘আমাকে গত বৃহস্পতিবার জানানোর পর আমি লোক পাঠাই। তখন তারা জানায়— লাইনে কোনো সমস্যা নেই, সমস্যাটি মোটরের কয়েলে। এরপর সেটি বৈদ্যুতিক মেকানিক গিয়ে চেক করে মেরামতের জন্য নিয়ে গেছেন বলে আমি জানি।’

একই দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী (ইলেক্ট্রিক্যাল) মো. আবু নাসের বলেন, ‘আমাকে গতকাল জানানোর পর সাথে সাথে আমি মেকানিক দিয়ে নষ্ট মোটরটি মেরামতের জন্য পাঠিয়েছি।’

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. জামাল হোসাইন বলেন, ‘আমাকে রোববার জানানোর পর ওইদিনই মোটরটি খুলে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আগে অবগত হলে আরও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেত।’

এ বিষয়ে প্রধান মেডিকেল অফিসার (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসাইন বলেন, ‘মোটরটি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে মোটরটি দ্রুত মেরামতের জন্য ডিপিডি দপ্তরকে বলেছি।’

চিঠির কারণে বিলম্ব হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা হতে পারে। তাদের শুক্রবারই জানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা এসে দেখে চলে যান। ছুটির দিন হওয়ায় মোটরটি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অফিসিয়াল কাজ করা যায়নি। গতকাল তারা মোটরটি মেরামতের জন্য নিয়ে গেছেন।’

মেডিকেল সেন্টারের ওয়াশরুমের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেলে মাত্র একজন ক্লিনার আছেন। তিনি নারী এবং বয়স বেশি হওয়ায় কাজও একটু কম করতে পারেন। রেজিস্ট্রার অফিসের স্টেট শাখাকে অনেকবার একজন ফুলটাইম পুরুষ ক্লিনারের কথা বলেছি, কিন্তু তারা এখনো দেয়নি এবং প্রতিবার অপারগতা প্রকাশ করেছেন।’

এমপি/ আরআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন