শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭:০৪, ১৩-০৭-২০২৬ | আপডেট: ২:৪৭, ১৪-০৭-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সম্প্রতি জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এক সংকটাপন্ন রোগীর ওপর যন্ত্রটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়।
উদ্ভাবক দলের তথ্যমতে, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রোগীর ওপর ভেন্টাসের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ট্রায়াল চলাকালে রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন, রক্তচাপ, হৃদ্স্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার এবং চেতনার মাত্রাসহ গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সূচক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ট্রায়াল শেষে আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস (এবিজি) বিশ্লেষণের মাধ্যমে যন্ত্রটির পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়, যা প্রত্যাশিত ফলাফল দিয়েছে।
রোগীর বৈধ অভিভাবকের পূর্ণ সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়। এ সময় জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালকসহ নিউরোঅ্যানেসথেসিয়া, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
এই উদ্ভাবনী প্রকল্পে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. আসিফ উর রহমান, কার্ডিওলজির পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডা. সিফায়েত ইনাম স্বাক্ষর এবং প্রকৌশলী বায়েজিদ শুভ। দীর্ঘ সাত বছরের গবেষণা ও প্রচেষ্টার ফল এই ‘ভেন্টাস’।
ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প খরচে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সংকটাপন্ন রোগীর কাছে ভেন্টিলেটর সেবা পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ সাত বছরের পরিশ্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেলে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও অনুমোদনের মাধ্যমে আমরা ভেন্টাসকে দেশের চিকিৎসাসেবার মূলধারায় যুক্ত করতে চাই।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় সফল হলেও যন্ত্রটির নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা এবং প্রচলিত বিদেশি ভেন্টিলেটরের সঙ্গে তুলনামূলক মান যাচাইয়ের জন্য আরও বিস্তৃত ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে উদ্ভাবক দল এখন সরকারি ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভেন্টাস-এর মতো দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত বড় ধরনের স্বনির্ভরতা অর্জন করবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য আইসিইউ সেবা আরও সহজলভ্য হবে।
এমপি/ আরআই