শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫:৪৭, ২৩-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক পোর্টাল সায়েন্স অ্যালার্ট-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, শরীরের সব অঙ্গ একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না। একই বয়সের দুই ব্যক্তির হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, ফুসফুস কিংবা কিডনির জৈবিক বয়সে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।
এ গবেষণায় ৯৮৩ জন মৃত ব্যক্তির ২৯টি অঙ্গের ৪০ ধরনের টিস্যুর ২৫ হাজার ৭১২টি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের ছবি বিশ্লেষণ করা হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষের টিস্যুর ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে কোষ ও টিস্যুর পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের নির্ধারণ করা বয়সের সঙ্গে ব্যক্তির প্রকৃত বয়সের গড় পার্থক্য ছিল প্রায় পাঁচ বছর। কোনো ব্যক্তির ফুসফুসের টিস্যু যদি তার প্রকৃত বয়সের তুলনায় বেশি বয়সী মানুষের মতো দেখায় তাহলে সেই অঙ্গকে তুলনামূলক বেশি বয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণে বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ হিসেবে টিস্যু সংকুচিত হওয়া, শক্ত ও দাগের মতো হয়ে যাওয়া, ক্ষুদ্র রক্তনালীর সংখ্যা কমে যাওয়া, পেশিতে অতিরিক্ত চর্বি জমা এবং স্নায়ু পাতলা হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
অঙ্গের জৈবিক বয়স নির্ণয়ে সাধারণত টিস্যু সংগ্রহ করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে কষ্টকর ও আক্রমণাত্মক পদ্ধতি। এ কারণে গবেষকেরা রক্তের মাধ্যমে একই তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুঁজতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে তারা টিস্যুর বয়স এবং রক্তে থাকা জিনের কার্যকলাপের পরিবর্তনের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে নতুন একটি এআই মডেল তৈরি করেন। এই মডেল শুধু রক্তের তথ্য ব্যবহার করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের জৈবিক বয়স অনুমান করতে সক্ষম।
গবেষকদের দাবি, পুরো শরীরের বয়স, পরিপাকতন্ত্র এবং যকৃতের জৈবিক বয়স নির্ধারণে এই পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো ফল দিয়েছে। ভবিষ্যতে এটি বয়সজনিত রোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এমপি/ আরআই