শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩:২৮, ২৫-০৭-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২০ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১০ হাজার ৯১১ জন। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৫৯টি ওয়ার্ডকে ইতোমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বর হলে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খেতে হবে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপিরিন সেবন করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও তরল খাবার দিতে হবে। বাইরে বের হলে শিশুদের ফুলহাতা পোশাক, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরিয়ে রাখলে মশার কামড়ের ঝুঁকি কমবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে করোনা, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ একাধিক ভাইরাসজনিত রোগ একসঙ্গে বাড়ছে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণ দেখা দিলেই পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রতি বছর ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। শুধু কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; সরকারকে সমন্বিত ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এডিস মশা স্বচ্ছ ও অল্প গভীর পানিতে ডিম পাড়ে। তাই ফুলের টব, টায়ার, ছাদ বা বারান্দায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সূর্যোদয়ের পরের দুই ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের দুই থেকে তিন ঘণ্টা এডিস মশার কামড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি থাকায় এ সময় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, বর্তমানে ডেনভ-৩ সেরোটাইপের সংক্রমণ বেশি হওয়ায় রোগীদের মধ্যে দ্রুত ডেঙ্গু শক সিনড্রোম-এর মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং বাসাবাড়ির আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এমপি/ আরআই