ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

সমুদ্রের পানিতে ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, ৫ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২:২৭, ১০-০৮-২০২৬

সমুদ্রের পানিতে ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া, ৫ জনের মৃত্যু

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবার থেকে ছড়ানো ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাস’ নামের এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে ইতোমধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, নোনা পানি ও সামুদ্রিক খাবারের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়াটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। শরীরে ঢোকার পর এটি কোষ, পেশি ও রক্তনালির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাস মূলত সমুদ্রের নোনা পানিতে পাওয়া যায়। উষ্ণ পানিতে এ ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বেঁচে থাকা ও বংশবিস্তার করতে পারে।

শরীরে প্রবেশের পর এটি ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে, যা রক্ত ও বিভিন্ন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেপসিস দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না পেলে দ্রুত জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।

গুরুতর সংক্রমণে শরীরের পেশি ও কোষকলায় পচন ধরতে পারে। এ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস’ বলা হয়। এতে আক্রান্ত অঙ্গ বিকল হওয়ার পাশাপাশি গুরুতর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের নোনা পানি এবং কাঁচা বা আধসেদ্ধ সামুদ্রিক খাবার থেকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।

শরীরে কাটা-ছেঁড়া, ক্ষত বা ট্যাটুর স্থান থাকলে নোনা পানির সংস্পর্শে ওই ক্ষত দিয়ে ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকতে পারে। প্রথমে ক্ষতস্থানের ত্বক ও নিচের পেশিতে সংক্রমণ শুরু হতে পারে। পরে ফোসকা ও মারাত্মক ক্ষত তৈরি হতে পারে।

সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র জ্বর, কাঁপুনি, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং হাত-পা নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় সেপসিস হয়ে জীবনহানিও ঘটতে পারে।

ভিব্রিয়ো ভালনিফিকাসের সংক্রমণের সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণে শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেপসিস বা টিস্যুতে দ্রুত পচন দেখা দিলে আক্রান্ত ও মৃত কোষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করতে হতে পারে।

ফ্লোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু সামুদ্রিক এলাকাতেও এ ব্যাকটেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন