শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৫৪, ০১-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল এইডস/এসটিডি কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রতিবছর নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। বর্তমানে দেশের ২৩টি জেলা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ যৌন আচরণ, একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক, যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে অজ্ঞতা, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং সামাজিক-নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীদের মাধ্যমে পরিবারেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ এখনো শনাক্তের বাইরে রয়েছে। ফলে তারা অজান্তেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছেন। ইউনিসেফ বলছে, সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলেও দেশের ৬৪ জেলাতেই এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্ত হওয়া ২১৭ জন এইচআইভি আক্রান্তের সবাই ছিলেন রোহিঙ্গা। এছাড়া বরিশাল, কুমিল্লা, যশোর, রাজশাহী ও পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে সংক্রমণ বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে বর্তমানে ১৫ জেলার ৫৪৬ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের মে পর্যন্ত সেখানে ৬৭২ জনের পরীক্ষায় ৩৭ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। যশোরে চলতি বছর নতুন শনাক্ত ৪৮ জনের মধ্যে ৩৫ জনই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের বর্তমান প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তরুণদের যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করা, ব্যবহৃত সিরিঞ্জ এড়িয়ে চলা, প্রবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সেলিং জোরদার করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকাই এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এমপি/ আরআই