শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪:২৭, ০১-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণা। এগুলো বড় প্লাস্টিক ভেঙে তৈরি হতে পারে, আবার কিছু শিল্পপণ্য ও প্রসাধনীতেও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে টুথপেস্ট, প্রসাধনী, বোতলজাত পানি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা বাড়লেও কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরীক্ষাগারের ফল ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
গবেষকদের ভাষ্য, মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত খাদ্য ও পানীয়, বাতাসে ভাসমান প্লাস্টিক ধূলিকণা এবং কিছু ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বোতলজাত পানি, সামুদ্রিক মাছ, লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্লাস্টিকের প্যাকেজিং থেকেও এ ধরনের কণা শরীরে ঢোকার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমানে প্রাণী ও মানুষের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় শরীরে প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। এছাড়া হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা চলছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এসব প্রভাব এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্ত, ফুসফুস, প্লাসেন্টা ও অন্যান্য টিস্যুতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। তবে এর উপস্থিতি মানেই নির্দিষ্ট কোনো রোগের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কোনো খাদ্য বা পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে কি না, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেখে বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য বিশেষ পরীক্ষাগারের উন্নত প্রযুক্তি, যেমন এফটিআইআর বা রামান স্পেকট্রোস্কপির মাধ্যমে পরীক্ষা করতে হয়।
ঝুঁকি কমাতে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ব্যবহার, গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখা, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কম ব্যবহার, নিরাপদ পানির উৎস বেছে নেওয়া, নিয়মিত ঘর পরিষ্কার রাখা এবং প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি কোনো পণ্য সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের পরিবর্তে সরকারি পরীক্ষাগার ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমপি/ আরআই