শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:৪৭, ০৮-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
দারিয়া শিপিলোভা নামে ওই তরুণী গবেষকের মৃত্যুর পর রাশিয়ায় নিউমোনিক প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। করোনাভাইরাস ও মাঙ্কিপক্সের পর ‘ডিজিজ এক্স’ নিয়ে সতর্কতার মধ্যেই প্লেগের সম্ভাব্য সংক্রমণের খবরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। ইয়ার্সিনিয়া পেস্টিস নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। সাধারণত ইঁদুর ও মাছির মাধ্যমে প্লেগের জীবাণু ছড়ায়। প্লেগের প্রধান ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিউবনিক, সেপ্টিসেমিক ও নিউমোনিক প্লেগ।
বিউবনিক প্লেগ সাধারণত ইঁদুরের মলমূত্র ও দেহাবশেষ থেকে ছড়ায়। সেপ্টিসেমিক প্লেগে শরীরের রক্ত ও বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হয়। আর নিউমোনিক প্লেগে সরাসরি ফুসফুস আক্রান্ত হয়।
নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হলে ফুসফুস দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এতে ফুসফুসে পানি জমা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং কাশির সঙ্গে রক্ত পড়তে পারে। রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে আশপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিউমোনিক প্লেগ প্লেগের সবচেয়ে সংক্রামক ধরন। আক্রান্ত হওয়ার সাত দিনের মধ্যেই এটি ফুসফুসে গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। রোগটি দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
তবে বর্তমানে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে প্লেগের চিকিৎসা সম্ভব। গবেষকদের মতে, আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে রোগটি মহামারির পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে সংক্রামক হওয়ায় দ্রুত শনাক্তকরণ ও সতর্কতা জরুরি।
ইতিহাসে প্লেগ ভয়াবহ মহামারির রূপ নিয়েছিল। ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত সেই মহামারিতে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
১৮৯৬ সালেও প্লেগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ভারতীয় উপমহাদেশে। পুণে, কলকাতা ও অবিভক্ত ভারতের করাচিসহ বিভিন্ন এলাকায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন গবেষকেরা।
এমপি/ আরআই