শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪:৪১, ০৬-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
রুশ গণমাধ্যমে নিহত ওই নারীর নামের প্রথম অংশ দারিয়া বলে জানানো হয়েছে। ২০ বছর বয়সী দারিয়া পেশায় একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান। রোগজীবাণু থাকা একটি টেস্টটিউব ভেঙে অথবা মঙ্গোলিয়া সীমান্তবর্তী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে বন্য ইঁদুরের সংস্পর্শে এসে প্রাকৃতিকভাবেই তিনি প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওই ল্যাব টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘অজ্ঞাত কারণে সৃষ্ট নিউমোনিয়া’ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ওই নারীর কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘কোনো অণুজীব’ তার জৈবিক নমুনায় পাওয়া যায়নি।
রাশিয়া থেকে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ক্রেমলিনের সঙ্গে কথা না হলেও এমন পরিস্থিতিতে তাদের যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত আছে।
এদিকে, ল্যাব টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর পর প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রটির আর কোনো কর্মী চিকিৎসা নিতে গেছেন—এমন খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ।
রুশ গণমাধ্যম গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, মৃত দারিয়ার সংস্পর্শে এসেছিলেন—এমন প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টিনসহ বিভিন্নভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, প্লেগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস। বুরিয়াতিয়া অঞ্চলে মারমটের মতো তৃণভোজী ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর দেহে এ ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। ১৪ শতকে এই ব্যাকটেরিয়ায় সৃষ্ট প্লেগ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত ছিল এবং এতে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯২০-এর দশকে প্লেগের প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে ১০০ বছরের কিছু বেশি সময় আগে সাইবেরিয়া ও দূরপ্রাচ্যবিষয়ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলুলার মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক সাইমন ক্লার্ক বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘পিএম’ অনুষ্ঠানে বলেন, ইয়ারসিনিয়া পেস্টিসের নিউমোনিক ধরন চিকিৎসা না করা হলে প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়। তবে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এর চিকিৎসা করা সম্ভব।
সাইমন ক্লার্ক আরও বলেন, ‘নিউমোনিক প্লেগ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর এ কারণেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
এদিকে, কোনো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব হলেই মানুষ লকডাউন আর কোভিডের কথা ভাবতে শুরু করে। কিন্তু এখানে তেমন কিছুই ঘটবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই অধ্যাপক। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘লোকজন মনে করে, “ওহ, প্লেগ তো নির্মূল হয়ে গেছে, শত শত বছর আগেই চলে গেছে।” কিন্তু আসলে তা নয়। এটি এখনো আছে এবং বিশ্বের কিছু অঞ্চলে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে রয়েছে। এ কারণেই এটি নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন।’
জীবাণুটিকে সম্ভাব্য জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য গবেষণা করা হয়ে থাকতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই বিজ্ঞানী বলেন, তা হতে পারে।
ক্লার্ক বলেন, ‘রাশিয়া বলেই মানুষের মনে এমন সন্দেহ আসছে। তবে আমি আগে যে ব্যাখ্যা দিয়েছি, সেটিই সম্ভবত বেশি যুক্তিসংগত।’
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মানুষকে ‘গুজবে কান না দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে রসপোট্রেবনাদজরের দেওয়া সরকারি বিবৃতির ওপর নির্ভর করতে বলেছেন তিনি।
এমপি/ আরআই