ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

ডব্লিউএইচও

১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্থূলতায় ওষুধ-অস্ত্রোপচার নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:০৭, ০৮-১০-২০২৬

১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্থূলতায় ওষুধ-অস্ত্রোপচার নয়

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি বা ওজন কমানোর যন্ত্র ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো প্রকাশিত বৈশ্বিক নির্দেশিকায় এ সুপারিশ করা হয়েছে।

ডব্লিউএইচও বলছে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সমন্বিত জীবনযাপন পরিবর্তনের কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত ফল না এলে অনুমোদিত ওষুধ বিবেচনা করা যেতে পারে। গুরুতর স্থূলতায় আক্রান্ত কিশোরদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কঠোর শর্তে ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে পাঁচ থেকে নয় বছর বয়সী প্রায় সাত কোটি শিশু এবং ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। অর্থাৎ পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রায় ১৭ কোটি শিশু-কিশোর স্থূলতার সঙ্গে বসবাস করছিল। ১৯৯০ সালে পাঁচ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল প্রায় ২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডব্লিউএইচওর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেগিল বলেন, শিশু ও কিশোরদের স্থূলতা ব্যবস্থাপনার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়; স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনই এর মূল ভিত্তি।

সংস্থাটি বলছে, স্থূলতা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও পুনরাবৃত্তিপ্রবণ রোগ। এর প্রভাব শৈশবেই শুরু হতে পারে এবং পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু-কিশোররা বুলিং, বৈষম্য ও সামাজিক অপমানের শিকার হতে পারে। তাই নতুন নির্দেশিকায় শুধু ওজন কমানোর পরিবর্তে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা এবং সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্থূলতা ব্যবস্থাপনায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। উদ্বেগ, বিষণ্নতা, আত্মসম্মান কমে যাওয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যার মতো বিষয়গুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

স্থূলতার কারণে বুলিং ও বৈষম্য শিশুর মানসিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্থূলতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সমন্বিতভাবে মোকাবিলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা পরিকল্পনায় শিশুর বয়স, বিকাশের স্তর ও পরিবারের প্রয়োজন বিবেচনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউএইচও বলছে, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের স্থূলতা বৃদ্ধির বৈশ্বিক প্রবণতা ঠেকানো সম্ভব নয়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও শারীরিক কর্মকাণ্ড সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে শিক্ষা, নগর পরিকল্পনা, পরিবহন ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন নির্দেশিকাটি প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শৈশব থেকে কৈশোর হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত জীবনচক্রভিত্তিক স্থূলতা ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরি করেছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে শিশুদের অপুষ্টি এখনো বড় সমস্যা হলেও বাড়ছে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা। ইউনিসেফের ‘ফিডিং প্রফিট: হাউ ফুড এনভায়রনমেন্টস আর ফেইলিং চিলড্রেন’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রায় ৮ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় রয়েছে। ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, মিষ্টি খাবার ও কোমল পানীয়ের সহজলভ্যতা এ প্রবণতার অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, গ্রামীণ অঞ্চলের প্রায় ২৮ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতিতে ভুগছে। ফলে দেশে অপুষ্টির ‘ডাবল বার্ডেন’ বা দ্বৈত বোঝা স্পষ্ট হচ্ছে—একদিকে পুষ্টির ঘাটতি, অন্যদিকে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের খাদ্যতালিকায়ও পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ৩৮ শতাংশ শিশু ডিম ও মাংস খায় না এবং ৪৬ শতাংশ শাকসবজি ও ফল খায় না। বিপরীতে, প্রায় ৫৯ শতাংশ শিশু নিম্নমানের খাবার ও কোমল পানীয় গ্রহণ করে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন