শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৪৮, ০৯-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা রোগের কারণে অন্ধ হয়ে যাওয়া ১০ জনের ওপর এ চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়। এ রোগে চোখের রেটিনার আলোকসংবেদনশীল কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। চিকিৎসাপদ্ধতিটি ২০২৬ সালের চিকিৎসা ও শারীরবিদ্যায় নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
অপটোজেনেটিক থেরাপি নামের এ পদ্ধতিতে আলো ব্যবহার করে মস্তিষ্কের কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গবেষকেরা জিন থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের চোখের রেটিনার টিকে থাকা গ্যাংলিয়ন কোষগুলোকে আলোকসংবেদনশীল করেন। এরপর বিশেষ চশমার সাহায্যে দৃশ্যের তথ্যকে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর সংকেতে রূপান্তর করে চোখে পাঠানো হয়। এতে পরিবর্তিত কোষগুলো সক্রিয় হয়ে মস্তিষ্কে দৃশ্যসংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে পারে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক রোগীর একটি চোখে আলোকসংবেদনশীল প্রোটিন ক্রিমসনআর তৈরির জিনগত নির্দেশনা বহনকারী উপাদান ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়। পরে রোগীরা এমন বিশেষ চশমা ব্যবহার করেন, যা আশপাশের দৃশ্য ধারণ করে আলোর সংকেতে রূপান্তর করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে সাতজনের আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনের ক্ষেত্রে চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছে। তারা কোনো বস্তু সামনে আছে কি না, সেটি কোথায় রয়েছে তা শনাক্ত করতে এবং বস্তুটির দিকে নির্ভুলভাবে হাত বাড়াতে পেরেছেন।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই একজনের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা সেরে যায়। গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ।
গবেষণাটির প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের ডা: হোসে-আলাঁ সাহেল বলেন, ‘গভীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও মানুষের দৃষ্টিব্যবস্থায় নতুন তথ্য প্রক্রিয়াকরণের অসাধারণ সক্ষমতা রয়ে যায়।’
গবেষকেরা বলছেন, অন্ধত্বের অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়েও রেটিনার টিকে থাকা গ্যাংলিয়ন কোষকে আলোর প্রতি সংবেদনশীল করে মস্তিষ্কে দৃশ্যসংক্রান্ত তথ্য পাঠানো সম্ভব হতে পারে। তবে চিকিৎসাপদ্ধতিটির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।
এদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি অস্ত্রোপচারের মতোই কার্যকর হতে পারে বলে আরেক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে আমেরিকান সোসাইটি ফর রেডিয়েশন অনকোলজির (অ্যাস্ট্রো) সভায় গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া রোগীদের গড়ে আট বছর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্যান্সার ফিরে না আসা পর্যন্ত বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে দুই চিকিৎসাপদ্ধতির ফলাফলে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল না। দুই সপ্তাহে পাঁচবার স্টেরিওট্যাকটিক বডি রেডিওথেরাপি (এসবিআরটি) নেওয়া রোগীদের ৯১ শতাংশ ক্যান্সার ফিরে আসা ছাড়াই বেঁচে ছিলেন। অস্ত্রোপচার করা রোগীদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ৮৪ শতাংশ।
তবে গবেষণাটিতে রোগীর সংখ্যা ছিল ১২৩, যা চিকিৎসা দুটির কার্যকারিতা সমতুল্য প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। আরেক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ বছর পর যৌন সক্ষমতা ও প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের ফল অস্ত্রোপচার করা রোগীদের তুলনায় ভালো ছিল।
ফুসফুসের ক্ষুদ্র কোষবিশিষ্ট ক্যান্সার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে পুরো মস্তিষ্কে রেডিওথেরাপি দেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে রেডিয়েশন প্রয়োগের পদ্ধতিও কার্যকর হতে পারে বলে আরেক গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্টেরিওট্যাকটিক রেডিওসার্জারি নামের এ পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার ছাড়াই উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন দিয়ে মস্তিষ্কের টিউমার ধ্বংস করা হয়। এতে আশপাশের সুস্থ মস্তিষ্কের টিস্যুর ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়। তবে ক্ষুদ্র কোষবিশিষ্ট ফুসফুসের ক্যান্সারে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া রোগের ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষ থেকে যাওয়ার আশঙ্কায় এত দিন পুরো মস্তিষ্কে রেডিওথেরাপি দেওয়া হতো।
গবেষণায় ১৫১ জন রোগীকে স্টেরিওট্যাকটিক রেডিওসার্জারি অথবা আধুনিক পদ্ধতির পুরো মস্তিষ্কে রেডিওথেরাপি দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট স্থানে রেডিয়েশন নেওয়া রোগীদের মধ্যম বেঁচে থাকার সময় ছিল ১৭ মাস। অন্যদিকে, পুরো মস্তিষ্কে রেডিওথেরাপি নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৯ মাস।
তবে গবেষণাটির মূল লক্ষ্য ছিল চিকিৎসার পর রোগীদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমতে কতটা সময় লাগে, তা তুলনা করা। এ ক্ষেত্রে দুই পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা বলেছেন, ফলাফল দুটি চিকিৎসাপদ্ধতির অগ্রগতি তুলে ধরলেও বেঁচে থাকার সময়ের পার্থক্যের কারণ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
এমপি/ আরআই