ঢাকা, রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

১৭ কার্তিক ১৪৩৩, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

রয়টার্স

ডিসেম্বরের আগে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫:৩৫, ০১-১১-২০২৬

ডিসেম্বরের আগে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ডিসেম্বরের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৩ জন। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু হয়েছিল ১৪৮ জনের।

এদিকে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। এ রোগে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফলে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে দেরি করায় বাড়ছে জটিলতা

চিকিৎসকেরা বলছেন, অনেক ডেঙ্গু রোগী গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে আসছেন। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এক দিনে সেখানে নতুন করে ভর্তি হন ৬৭ জন।

হাসপাতালটির পরিচালক মির্জা গোলাম সারওয়ার জানান, অনেক রোগী শক নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তাদের কারও কারও রক্তচাপ মাপার মতো অবস্থায় থাকছে না, অক্সিজেনের মাত্রাও কমে যাচ্ছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গুতে বারবার আক্রান্ত হওয়া এবং রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিতে দেরি করায় গুরুতর রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে আবার সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এ কারণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী ফয়সাল ফেরদৌস ২০১৭, ২০২৪ এবং চলতি মাসের শুরুতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তিনি জানান, এবার তার স্ত্রীসহ দুজনকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। পাঁচ বছর বয়সী ছেলের অন্য একটি রোগের চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন হাসপাতালে থাকার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই দেশে ছড়িয়ে পড়ায় গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য ধরনে সংক্রমিত হলে জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালু হয়নি। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে টিকা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

জলবায়ু পরিবর্তনে দীর্ঘ হচ্ছে ডেঙ্গুর মৌসুম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, অক্টোবরে যে হারে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়েছে, সেই হার অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কম। তবে নভেম্বরজুড়েই সংক্রমণ চলতে পারে। এ মাসে কিছুটা স্বস্তি মিললেও ডেঙ্গু পুরোপুরি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ডিসেম্বরের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

তিনি বলেন, আগের বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া মশার প্রজননস্থল থেকে নতুন মশা জন্মাতে থাকবে। ফলে আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করলেও সংক্রমণ চলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরনে পরিবর্তনের কারণে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে। এতে এডিস মশা আরও বেশি সময় সক্রিয় থাকছে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন