শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৩৯, ২৮-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক হাজারের বেশি রোগীর ওপর চালানো পরীক্ষায় টিকাটি অস্ত্রোপচারের পর মেলানোমার টিউমার পুনরায় ফিরে আসা বা শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষকেরা বলছেন, এই সাফল্য ব্যক্তিভিত্তিক বা কাস্টমাইজড ক্যান্সার টিকার নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। রোগীর টিউমারে থাকা নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী টিকা তৈরি করা হবে। এরপর টিকাটি রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষিত করবে।
মডার্না ও মার্ক ২০১৬ সালে ক্যান্সারের টিকা তৈরিতে যৌথভাবে কাজ শুরু করে। এ প্রকল্পে মার্ক ২০১৬ সালে ২০০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। দুই প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির ব্যয় ও মুনাফা ভাগ করে নেয়।
এই সাফল্যের পেছনে এমআরএনএ প্রযুক্তির পাশাপাশি মার্কের ক্যান্সারের ওষুধ কিট্রুডার ভূমিকা রয়েছে। কিট্রুডা ইমিউন সিস্টেমের একটি প্রাকৃতিক ‘ব্রেক’ সরিয়ে টি-সেলকে ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে সহায়তা করে। আর নতুন টিকাটি রোগীর টিউমারের নির্দিষ্ট মিউটেশন শনাক্ত করে ইমিউন সিস্টেমকে সেগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে।
আগের ক্যান্সার টিকাগুলো সাধারণত একটি বা দুটি নির্দিষ্ট টিউমার মিউটেশনকে লক্ষ্য করত। কিন্তু এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন টিকাটি একজন রোগীর ক্ষেত্রে একাধিক মিউটেশনকে লক্ষ্য করতে পারে। পরীক্ষায় প্রতি রোগীর জন্য ৩৪টি পর্যন্ত নির্দিষ্ট ক্যান্সার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথমে মেলানোমার রোগীদের ওপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে। কারণ এ ধরনের ক্যান্সারে তুলনামূলক বেশি মিউটেশন থাকে এবং ইমিউনোথেরাপির ক্ষেত্রেও এর ভালো সাড়া পাওয়ার নজির রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের বেছে নেওয়ায় টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভিত্তিক টিকা তৈরির সময়ও পাওয়া গেছে।
মডার্নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান বানসেল এই সাফল্যকে ২০২০ সালে তাদের কোভিড-১৯ টিকার পরীক্ষার সফল ফল প্রকাশের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে কোম্পানিগুলো এখনই থেমে থাকতে চাইছে না। মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, কিডনি ও অগ্ন্যাশয়ের মতো তুলনামূলক কম মিউটেশনযুক্ত ক্যান্সারেও এই পদ্ধতি কাজ করে কি না, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন আগামী বছর নাগাদ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে মডার্না ও মার্ক উভয় প্রতিষ্ঠানই বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে পারে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই টিকার বিক্রি এক বিলিয়ন ডলার এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে।
এমপি/ আরআই