ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

১৫ কার্তিক ১৪৩৩, ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সান ফার্মার চোখের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫:৫৮, ৩০-১০-২০২৬

সান ফার্মার চোখের ওষুধ উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি পাওয়ায় ভারতের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সান ফার্মার আসাম কারখানায় চোখের সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কারখানাটিতে উৎপাদিত চোখের ওষুধের ৩৩২টি ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহারের বিষয়েও তথ্য চেয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল (৩০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় ওষুধ মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (সিডিএসসিও) এবং আসামের ড্রাগস কন্ট্রোলারের কার্যালয় যৌথ পরিদর্শনের পর এ নির্দেশ দেয়। কারখানাটির মান ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে জুলাইয়ে সান ফার্মা স্বেচ্ছায় চোখের ১১টি ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছিল।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, সন্তোষজনক কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত ওই কারখানায় চোখের ওষুধ উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ বন্ধ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি নির্দেশনার জবাবে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, প্রত্যাহার করা ওষুধের মধ্যে রয়েছে লোটেপ্রেড ১ শতাংশ ৫ মিলিলিটার আই ড্রপ, নেপাল্যাক্ট ওডি, নেপাল্যাক্ট-জেড, ব্রিনজোটিম ৫ মিলিলিটার আই ড্রপ এবং ডেপোপ্রেড ২ মিলিলিটার। এসব ওষুধ চোখের প্রদাহ, সংক্রমণ ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রত্যাহার করা ৩৩২ ব্যাচের সব ওষুধ দূষিত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আক্রান্ত ব্যাচগুলোর আওতায় কয়েক লাখ আই ড্রপের বোতল থাকতে পারে। এসব ওষুধ ভারতের বাইরে রপ্তানি হয়েছিল কি না কিংবা কোনো রোগীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট নয়।

এর আগে গত জুনে অল ইন্ডিয়া অপথালমোলজিক্যাল সোসাইটি (এআইওএস) প্রেডমেট আই ড্রপের কয়েকটি ব্যাচে দূষণের আশঙ্কা জানিয়ে রোগী-সুরক্ষা সতর্কতা জারি করেছিল। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ওই ড্রপ ব্যবহারের পর কয়েকজন রোগীর সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া যায়। পরে সিল করা বোতল পরীক্ষা করে দূষণের প্রমাণ মেলে।

রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে সান ফার্মার গুজরাটের হালোলে অবস্থিত জীবাণুমুক্ত ওষুধ উৎপাদন কারখানাও যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নজরদারিতে পড়েছিল। গত বছর দূষণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ওই কারখানা থেকে ওষুধের চালান পাঠানো বন্ধ করে দেয় সংস্থাটি।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন