শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪:৩৫, ১৫-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াল্টার অ্যান্ড এলাইজা হল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল রিসার্চ–এর গবেষকেরা মশার কামড়কে ‘ন্যাচারাল ভ্যাকসিন বুস্টার’ বা প্রাকৃতিক টিকার বুস্টার হিসেবে ব্যবহার করার একটি পরীক্ষামূলক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়াবাহী মশা কামড়ানোর পর পরজীবী প্রথমে যকৃতে প্রবেশ করে এবং পরে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে রোগ সৃষ্টি করে। তবে নতুন এই পদ্ধতিতে পরজীবীকে যকৃতেই আটকে দেওয়া হয়, ফলে তা রোগ সৃষ্টি করতে পারে না। একই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা পরজীবীটিকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পায়।
গবেষণায় ডব্লিউএম৩৮২ এবং এমকে-৭৬০২ নামে দুটি পরীক্ষামূলক অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। ওষুধ দুটি পরজীবীর বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্লাজমেপসিন-৯’ ও ‘প্লাজমেপসিন-১০’ নামের দুটি প্রোটিনকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে পরজীবী রক্তে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস হয়ে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি ইঁদুরের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি পরবর্তী সময়ে ম্যালেরিয়াবাহী মশার কামড়ও শরীরের প্রতিরোধক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। গবেষকেরা এটিকে ‘ভ্যাকসিনেট অ্যান্ড বুস্ট ন্যাচারালি’ পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গবেষণার প্রধান গবেষকদের একজন সহযোগী অধ্যাপক জাস্টিন বডি বলেন, মশার কামড়কে সংক্রমণের পরিবর্তে প্রতিরোধব্যবস্থার অংশে পরিণত করা গেলে তা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, সাধারণ মানুষের এখনই ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যালেরিয়াবাহী মশার সংস্পর্শে যাওয়া উচিত নয়। কারণ, গবেষণাটি এখনো পরীক্ষাগারে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এমপি/ আরআই