শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:০৬, ২০-০৯-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (১৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, ২০২২ সালে জাতীয় সংসদে অ্যাক্রেডিটেশন আইন পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএমইএসি) গঠিত হয়। বাংলাদেশের মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চতর শিক্ষা ও পেশাগত সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, দেশের ১২৪টি সরকারি, বেসরকারি ও আর্মি মেডিকেল কলেজের মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠান বিএমইএসি স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছে। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এবং নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ বিভিন্ন ধাপে মান যাচাইয়ের পর স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে দেশে বিএমইএসি স্বীকৃত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান—চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরে সিআইএমসির উদ্যোগে চারটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সম্মেলনে বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫টি দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন। মালয়েশিয়া, তুরস্ক, চীন ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিআইএমসির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রয়েছে বলেও জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বলেন, চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কলেজের সঙ্গে ৫০০ শয্যার চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যুক্ত রয়েছে। হাসপাতালের ২১টি বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। অন্তর্বিভাগের শয্যাগুলো প্রায় সময় পূর্ণ থাকায় জায়গার অভাবে রোগী ফেরত দিতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ১০ শতাংশ রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি থাকায় অনেক রোগীকে মেঝে ও সিঁড়িতে চিকিৎসা নিতে হয়। এ চাপ কমাতে অধিক শয্যার হাসপাতাল প্রয়োজন। এ কারণে আরও ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন। তাই দাতা সংস্থা, সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, একই ক্যাম্পাসে গত ২২ বছর ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ৬৫ ইউনিটের ডেন্টাল হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন রোগী দন্ত চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া গত আট বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির নার্সিং কলেজও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি সোসাইটির সভাপতি এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম মোহসেন।
এ সময় চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান ও গভর্নিং বডির সভাপতি ডা: এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও বিএএন্ডডিসির সদস্য ডা: খুরশিদ জামিল চৌধুরী, সিআইএমসির এক্সিকিউটিভ কমিটির সচিব অধ্যাপক মো. নুরুন্নবী, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা: মো. টিপু সুলতান এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মুসলিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এমপি/ আরআই