শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:৩৮, ২৪-০৯-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার হাউসের গ্রিল কেটে ট্রান্সফরমারের গুরুত্বপূর্ণ তার খুলে নিয়ে যায়। এরপর বিদ্যুৎ সরবরাহে ভোল্টেজের ব্যাপক ওঠানামা শুরু হয়। এতে আবাসিক হলের ফ্যান, লাইটসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হতে থাকে।
একপর্যায়ে ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের মূল ইউনিট সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এরপর পুরো ক্যাম্পাস বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিকল্প হিসেবে সোলার সিস্টেম চালু করা হলেও তা দিয়ে পুরো ক্যাম্পাসের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন আইএইচটিতে বর্তমানে ল্যাবরেটরি ও ফার্মেসি—দুটি বিভাগে ২৮৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের সবাই আবাসিক। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ না থাকায় আবাসিক হলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতির কারণে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী ছাড়া আবাসিক হলটি প্রায় ফাঁকা। যারা এখনও হলে অবস্থান করছেন, তাদের তীব্র গরম ও অন্ধকারের মধ্যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এর মধ্যে ক্লাস ও আবাসিক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চতুর্থ বর্ষের শেষ সেমিস্টারের মৌখিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বর্ষের সেমিস্টার সমাপনী পরীক্ষা খুব কাছাকাছি হওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা।
ফার্মেসি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক সরকার বলেন, ‘সামনে এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অথচ পড়াশোনা তো দূরের কথা, টিকে থাকাটাই দায় হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুর রহমান সরকার বলেন, ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ট্রান্সফরমারটি আইএইচটির নিজস্ব সম্পত্তি। তাই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নতুন ট্রান্সফরমার কিনে স্থাপন করলেই বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করার ব্যবস্থা করা হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আইএইচটির অধ্যক্ষ মো. আবদুল কুদ্দুস মণ্ডল বলেন, ‘তার চুরির পর ভোল্টেজ চরম ওঠানামা করায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ও মূল ট্রান্সফরমারটি পুড়ে যায়। তীব্র অন্ধকারে হলে শিক্ষার্থীদের রাখা নিরাপদ ও মানবিক ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে ছুটি ঘোষণা করতে হয়েছে। নতুন ট্রান্সফরমার বসিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই ছুটি বাতিল করে পুনরায় ক্লাস ও পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হবে।’
এমপি/ আরআই