ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

১৯ কার্তিক ১৪৩৩, ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

মিয়ানমারে প্রসূতি ক্লিনিকে বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:১৭, ০৩-১১-২০২৬

মিয়ানমারে প্রসূতি ক্লিনিকে বিমান হামলা, নবজাতকসহ নিহত ১৫

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় একটি অস্থায়ী প্রসূতি ক্লিনিকে এক নবজাতকসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। একই দিনে দেশটির একটি স্কুলে হামলায় আরও তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দুই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

গতকাল (২ নভেম্বর) স্থানীয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রোববার পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-ইউ শহরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও প্রসূতি বিভাগে বিমান হামলা চালায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন।

ম্রাউক-ইউভিত্তিক ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং বলেন, হামলায় এক সপ্তাহ বয়সী একটি শিশু কন্যা নিহত হয়েছে। শিশুটির যমজ বোন বেঁচে আছে। পরদিনই তাদের ক্লিনিক থেকে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিস্ফোরণে ভবনটি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

আরাকান আর্মির এক মুখপাত্র ও এক ত্রাণকর্মী জানান, রোববার রাখাইন রাজ্যের চারটি শহরে বিমান হামলা চালানো হয়। কিয়াকতাওয়ের একটি সেতু, কিয়াকফিউ ও পাউকতাওয়ের বিভিন্ন এলাকা এবং ম্রাউক-ইউ শহরের ওই ক্লিনিকে হামলা চালায় সামরিক বাহিনী।

এদিকে, থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কায়াহ রাজ্যের লোইকাও শহরের একটি স্কুলে শনিবার বিমান হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা কারেনি হিউম্যান রাইটস। ক্লাস চলাকালে এ হামলা চালানো হয়।

কারেনি ইন্টারিম এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের আহ্বায়ক বানিয়ার খুন অং ও কারেনি হিউম্যান রাইটসের দাবি, একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান এবং একটি যুদ্ধবিমান থেকে স্কুলটিতে ২০টিরও বেশি বোমা ফেলা হয়। ওই এলাকায় কোনো সামরিক তৎপরতা বা সংঘর্ষ ছিল না বলে জানিয়েছেন বানিয়ার খুন অং।

তিনি বলেন, ছোট শিশুরা যেখানে পড়াশোনা করছে, সেই স্কুলে বারবার হামলা চালানো চরম অমানবিক কাজ এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।

হামলার বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি। তবে এর আগে সরকার বলেছিল, দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যের বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া আরাকান আর্মি রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখলে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এদিকে, যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে। বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং থাই ভূখণ্ডে অন্তত একজন আহত হওয়ার পর দেশটির সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যুদ্ধবিমান আকাশে টহল দিচ্ছে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, মিয়ানমারকে সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তার সরকার, যাতে পরিস্থিতির প্রভাব থাইল্যান্ডের ওপর না পড়ে।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন