ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিশু ক্যান্সারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে ভারত: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২:৫২, ১২-০৮-২০২৬

শিশু ক্যান্সারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে ভারত: গবেষণা

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশে ২০২২ সালে শনাক্ত হওয়া শিশু ক্যান্সার রোগীর ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশই ভারতে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ–সাউথইস্ট এশিয়া’তে প্রকাশিত জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিশু ক্যান্সারের আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণায় ২০২২ সালের গ্লোবোক্যানের তথ্য ব্যবহার করে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় শিশু ক্যানসারের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সার্ক অঞ্চলে ওই বছর আনুমানিক ৩৭ হাজার ৭১৬ শিশু নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় প্রায় ১৭ হাজার ৬৯৮ জন।

আক্রান্তের সংখ্যায় ভারত সবার ওপরে। দেশটিতে ২৫ হাজার ৯৩৯ শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়, যা সার্ক অঞ্চলের মোট আক্রান্তের ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানে আক্রান্ত হয় ৭ হাজার ৮৪১ শিশু, যা মোট আক্রান্তের ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।

তবে গবেষকরা বলছেন, ভারতের বিপুল জনসংখ্যার কারণেই শুধু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি—বিষয়টি এমন নয়। দেশভেদে বয়সভিত্তিক ক্যানসারের হার ও মৃত্যুহারে বড় পার্থক্য রয়েছে। এর পেছনে ক্যান্সার শনাক্তকরণ, রোগী নিবন্ধন, বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতার পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সার্কভুক্ত আটটি দেশেই শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যান্সার। মোট আক্রান্তের প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ এ রোগে আক্রান্ত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের টিউমার, যা প্রায় ১২ শতাংশ কেসের জন্য দায়ী।

গবেষণায় শিশু ক্যান্সারে মৃত্যুর ক্ষেত্রেও দেশভেদে বড় ব্যবধান পাওয়া গেছে। আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুর হার বা ‘মর্টালিটি-টু-ইনসিডেন্স রেশিও’ শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে কম—০ দশমিক ৩০। আফগানিস্তানে এ হার সর্বোচ্চ—০ দশমিক ৫৭। গবেষকদের মতে, এ পার্থক্য দেশগুলোর চিকিৎসা অবকাঠামো ও বিশেষায়িত সেবার সক্ষমতার বৈষম্যকে নির্দেশ করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে শিশু ক্যান্সারে আক্রান্ত ৮০ শতাংশের বেশি শিশু সুস্থ হয়ে ওঠে। বিপরীতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ হার ৩০ শতাংশের নিচে। দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, ভুল বা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা, চিকিৎসার ব্যয় বহনে অক্ষমতা এবং চিকিৎসা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব দেশে মৃত্যুহার বেশি।

গবেষকরা দক্ষিণ এশিয়ায় শিশু ক্যান্সার মোকাবিলায় শক্তিশালী ক্যান্সার রেজিস্ট্রি গড়ে তোলা, আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে লিউকেমিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শিশু ক্যান্সারের চিকিৎসায় মানসম্মত ও সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্যান্সার প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যান্সারের তুলনায় আলাদা। সাধারণত জীবনযাপন বা অসচেতনতার কারণে শিশুদের ক্যান্সার হয় না এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধও করা যায় না। তবে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ শিশু ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী শিশু ক্যান্সারে বেঁচে থাকার হার অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় এ লক্ষ্য অর্জনে ভৌগোলিক ও আর্থিক বাধা দূর করে সব শিশুর জন্য সময়মতো মানসম্মত ক্যান্সার চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন