শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬:৪৬, ০৫-০৮-২০২৬ | আপডেট: ৬:৪৭, ০৫-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘সেক্সুয়াল মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণায় ৬৫৮ জন বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত নারী-পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেন বিএমইউর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসানের নেতৃত্বে একদল গবেষক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, গর্ভনিরোধক ব্যবহার ছাড়া টানা এক বছর দাম্পত্য জীবন কাটানোর পরও সন্তান না হলে সেটিকে বন্ধ্যত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বজুড়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশ দম্পতি এ সমস্যায় ভোগেন।
গবেষণায় অংশ নেন ৩২০ জন পুরুষ ও ৩৩৮ জন নারী। এতে দেখা যায়, নারীদের মধ্যে বিষণ্নতার হার ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ, উদ্বেগ ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং মানসিক চাপ ৬৯ দশমিক ২ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষদের মধ্যে বিষণ্নতার হার ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ, উদ্বেগ ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মানসিক চাপ ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়া, বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কারণে নারীদের মানসিক চাপ অনেক বেড়ে যায়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের বন্ধ্যা নারীদের মানসিক ট্রমার মাত্রা বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি।
অন্যদিকে, গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধ্যত্বে আক্রান্ত পুরুষদের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো না কোনো যৌন সমস্যায় ভুগছেন, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। উত্থানজনিত সমস্যা ও দ্রুত বীর্যপাত পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। গবেষকদের মতে, পুরুষদের মানসিক সুস্থতার সঙ্গে তাদের যৌন সক্ষমতা ও আত্মপরিচয়ের সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িত।
গবেষণায় সুপারিশ করা হয়েছে, বন্ধ্যত্ব নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে বহুমুখী সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে চিকিৎসার পাশাপাশি দম্পতিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও দাম্পত্য কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।
গবেষণার সহ-গবেষক ছিলেন বিএমইউর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা দীবা, বারডেম উইমেন্স অ্যান্ড চিলড্রেন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুসরাত মাহমুদসহ দেশি-বিদেশি একাধিক গবেষক।
গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসান বলেন, বন্ধ্যত্ব শুধু সন্তান ধারণের সমস্যা নয়, এটি দম্পতির মানসিক স্বাস্থ্য ও দাম্পত্য জীবনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তাই বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, কাউন্সেলিং এবং যৌনস্বাস্থ্যসেবাও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
এমপি/ আরআই