শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩:০৪, ০৬-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
এক গবেষণায় প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক রোগী এবং প্রায় ৬ লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ‘এ’ গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে ৬০ বছরের আগে ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ‘ও’ গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম ছিল। ‘বি’ গ্রুপের মানুষের মধ্যেও সামান্য বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গবেষকদের ধারণা, ‘এ’ গ্রুপের মানুষের শরীরে এমন কিছু জৈবিক বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা কিছুটা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে ইসকেমিক স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। তবে এ সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি। ২০১৪ সালের আরেকটি বড় গবেষণায় ‘এ’ বা ‘বি’ গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের স্পষ্ট সম্পর্ক পাওয়া না গেলেও ‘এবি’ গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কিছুটা বেশি দেখা গেছে। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, রক্তের গ্রুপ ও স্ট্রোকের সম্পর্ক নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই রক্তের গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া
এক হাত বা এক পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে না পারা
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
তীব্র মাথাব্যথা
ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের গ্রুপ স্ট্রোকের ঝুঁকির একটি সম্ভাব্য উপাদান হলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এমপি/ আরআই