ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

২৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

গবেষণা

তামাকের মোড়কে সতর্কবাণী, আইন মানছে না অধিকাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭:৪২, ০৯-০৮-২০২৬ | আপডেট: ৭:৪২, ০৯-০৮-২০২৬

তামাকের মোড়কে সতর্কবাণী, আইন মানছে না অধিকাংশ

ছবি: মেডিকেল পোস্ট

তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেওয়ার হার গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৮ শতাংশে দাঁড়ালেও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে সতর্কবাণী রয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ মোড়কে। অর্থাৎ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তামাকের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে মানছে না।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেল (টিসিআরসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আইন অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বাস্তবায়ন: বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে ৩৯৪টি তামাকজাত পণ্যের মোড়ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর ধারা ১০ এবং পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা, ২০২১-এর সংশ্লিষ্ট বিধানকে পর্যবেক্ষণের সূচক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ মোড়কের উভয় পাশে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে জর্দা, গুল ও বিড়ির ক্ষেত্রে আইন মানার হার আরও কম। ২৯৭টি জর্দার মোড়কের মাত্র ২৮ শতাংশে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী পাওয়া গেছে। ২০টি গুলের কোনো মোড়কেই নির্ধারিত ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ছিল না।

তামাকজাত পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ঘাটতি পাওয়া গেছে। ৩৯৪টি মোড়কের মাত্র ১৬ শতাংশে সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি) এবং ৫৫ শতাংশে উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ ছিল। এছাড়া ৮০ শতাংশ মোড়কে ট্রেড লাইসেন্স নম্বর পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় ব্র্যান্ডের নাম বা স্ট্যাম্প দিয়ে স্বাস্থ্য সতর্কবাণী আংশিকভাবে ঢেকে রাখা, খোলা তামাক ও খুচরা শলাকা বিক্রি এবং নিম্নমানের মোড়ক ব্যবহারের মতো অনিয়মও উঠে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগের দুর্বলতাকে এসব অনিয়মের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষণায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং চালু, খুচরা শলাকা ও খোলা তামাক বিক্রি বন্ধ, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারী তামাকপণ্য জব্দ ও ধ্বংসের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সব তামাক কোম্পানিকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা, উৎপাদনের তারিখ, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্যসহ বাধ্যতামূলক তথ্য সঠিকভাবে মুদ্রণ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে টিসিআরসির প্রকল্প কর্মকর্তা বিভূতী ভূষণ মাহাতো বলেন, তামাকজাত পণ্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আকার ও অন্যান্য শর্ত মেনে দেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের সদস্য ও ‘সেতু’র প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা বলেন, নতুন সংশোধিত আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন করে ৭৫ শতাংশ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী ও স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, টিসিআরসি ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর এ গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। গবেষণার ফলে তামাকজাত পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগোর অবৈধ ব্যবহার বন্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান তিনি।

এমপি/ আরআই

আরও পড়ুন