শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:২৫, ১০-০৮-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
গতকাল (৯ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় আইসিডিডিআর,বি’র ‘এন্টারিক্স ফর গ্লোবাল হেলথ শিগেলা সার্ভেইল্যান্স স্টাডি’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে গবেষকরা শিগেলা শনাক্তকরণে প্রচলিত পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রচলিত মল কালচার পরীক্ষায় প্রায় ৫ দশমিক ৯ জনের শিগেলা শনাক্ত হয়। একই নমুনা কিউপিসিআর পরীক্ষায় বিশ্লেষণ করে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর মধ্যে।
গবেষকদের মতে, এর অর্থ হলো প্রচলিত পরীক্ষায় শিগেলা আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশ শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
শিগেলা সংক্রমণে সাধারণ ডায়রিয়ার পাশাপাশি রক্তামাশয়, তীব্র জ্বর ও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ শারীরিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে স্টান্টিংয়ের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
গবেষণার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো শিগেলা জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা। বাংলাদেশে পরীক্ষা করা শিগেলা নমুনার প্রায় ৬০ শতাংশে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বা মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্স পাওয়া গেছে।
এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ নমুনায় এক্সটেনসিভ ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এক্সডিআর) শনাক্ত হয়েছে। ফলে শিগেলা সংক্রমণের কার্যকর চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
আইসিডিডিআর,বি’র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডা. ফেরদৌসী কাদরী ও ডা. ফারহানা খানম গবেষণার মূল ফলাফল ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও গবেষণা পরিচালক ডা. শাহ নেওয়াজ দেওয়ান, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইইডিসিআর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইএফআরসি ও সিটি করপোরেশনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
এদিকে, শিগেলা সংক্রমণের বিস্তার ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ কমাতে আইসিডিডিআর,বি’র পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ব্যবহার বন্ধ করা এবং নিয়মিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স পর্যবেক্ষণ করা; ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ওরাল স্যালাইন, জিংক ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক নিশ্চিত করা; আধুনিক কিউপিসিআরসহ উন্নত রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগ ও পরিধি বাড়ানো; শিশুদের রোগ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যকর্মীদের আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ দেওয়া।
এমপি/ আরআই