শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:২৫, ২৯-০৯-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিফ ইউরোলজিস্ট ডা: সুশীল খারবান্দা জানান, পরীক্ষার সময় দেখা যায় ওই ব্যক্তির দুই অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে নেই। তার বীর্যে শুক্রাণুর উপস্থিতিও পাওয়া যায়নি। পরে এমআরআইয়ে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের পাশাপাশি সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত অণ্ডকোষ দেখা যায়। ক্রোমোজোম পরীক্ষায় তার ৪৬XY ক্রোমোজোম পাওয়া যায়।
চিকিৎসকদের মতে, এ অবস্থাকে ‘পারসিস্টেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম’ (পিএমডিএস) বলা হয়। এটি একটি বিরল জন্মগত অবস্থা। এ ক্ষেত্রে ৪৬XY ক্রোমোজোম থাকা ব্যক্তির শরীর পুরুষের মতো বিকশিত হলেও জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো মুলেরিয়ান নালী থেকে তৈরি অঙ্গগুলো শরীরে থেকে যায়।
ডা: খারবান্দা জানান, সাধারণত পুরুষ ভ্রূণের শরীরে অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন তৈরি হয়ে মুলেরিয়ান নালীর বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। কিন্তু পিএমডিএসের ক্ষেত্রে এই হরমোনের ঘাটতি বা এর রিসেপ্টরে সমস্যা থাকায় জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব শরীরে থেকে যেতে পারে।
ওই যুবকের শরীরে ডিম্বাশয় ছিল না; এর পরিবর্তে ছিল অণ্ডকোষ। চিকিৎসক জানান, জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবগুলো অনুন্নত ছিল এবং শরীরে এগুলোর কার্যকর ভূমিকা ছিল না। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এগুলো অপসারণ করা হয়েছে। একটি অণ্ডকোষে প্রাক-ক্যানসারাস পরিবর্তনও পাওয়া যায়।
চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সাত দিন পরই ওই যুবক কাজে ফিরেছেন। অণ্ডকোষ অপসারণের কারণে শরীরে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমে যাবে। তাই তাকে প্রতি তিন মাস অন্তর টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন নিতে হবে। তবে তার যৌন বা সামাজিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।
চিকিৎসকদের মতে, পিএমডিএস অত্যন্ত বিরল। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত ৩০০টিরও কম এ ধরনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অণ্ডকোষ স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকলে বা শিশুর জন্মের সময় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
এমপি/ আরআই