শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:২৪, ০২-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে, এফডিএ উপদেষ্টা প্যানেলের সুপারিশ মানতে বাধ্য নয়। তবে সাধারণত সংস্থাটি প্যানেলের সুপারিশ অনুসরণ করে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকেরাও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরীক্ষাটি অনুমোদন পেতে পারে বলে ধারণা করছেন। অনুমোদন পেলে গ্যালেরির জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আসা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের কোনো পরীক্ষাই এফডিএ অনুমোদিত নয়। ফলে বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান এবং মেডিকেয়ারের মতো সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিও সাধারণত এসব পরীক্ষার খরচ বহন করে না।
গ্যালেরি ও অ্যাবটের ‘ক্যান্সারগার্ড’ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ল্যাবরেটরি-ডেভেলপড টেস্ট হিসেবে বাজারজাত হচ্ছে। মেডিকেয়ার এগুলোর খরচ বহন করে না। ফলে রোগীদের গ্যালেরির জন্য প্রায় ৭০০ ডলার এবং ক্যান্সারগার্ডের জন্য প্রায় ৯০০ ডলার নিজ খরচে দিতে হয়।
চলতি বছর পাস হওয়া একটি মার্কিন আইনের আওতায় এফডিএ অনুমোদন পেলে ২০২৮ সাল থেকে পরীক্ষাগুলো মেডিকেয়ারের আওতায় আসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে হতে পারে, যদি ইউএস প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস টাস্ক ফোর্স পরীক্ষাগুলোর ব্যবহারের সুপারিশ করে।
এক রক্ত পরীক্ষায় বহু ক্যান্সার শনাক্তের চেষ্টা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্তন, জরায়ুমুখ, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট ও ফুসফুস—এই পাঁচ ধরনের ক্যান্সারের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিং নির্দেশিকা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্রোস্টেট ক্যান্সার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হয়।
মাল্টি-ক্যান্সার আর্লি ডিটেকশন (এমসিইডি) পরীক্ষার লক্ষ্য হলো একবার রক্তের নমুনা নিয়ে শরীরে ক্যান্সারের সম্ভাব্য সংকেত শনাক্ত করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে এসব সংকেত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ক্যান্সারের ধরন ও উৎপত্তিস্থল শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
গ্রেইলের দাবি, গ্যালেরি ৫০টির বেশি ধরনের ক্যান্সারের সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ক্যান্সারের সংকেতের সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল ৯৩ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ভুলতায় শনাক্ত করতে পারে। তবে পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল পাওয়া মানেই শরীরে ক্যান্সার নেই—এমন নয়। আবার পজিটিভ ফল পাওয়া গেলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
এসব পরীক্ষা রোগীর চিকিৎসার ফলাফল কতটা উন্নত করতে পারে, তা নিয়ে চিকিৎসক ও গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। ৫০ থেকে ৭৭ বছর বয়সী উপসর্গহীন ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে তিন বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় গ্যালেরি প্রচলিত চিকিৎসাব্যবস্থার তুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণ বা দেরিতে শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেনি বলে গ্রেইল জানিয়েছে।
তবে মে মাসে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ফলাফলে দেখা যায়, ১২ ধরনের প্রাণঘাতী ক্যান্সারে তৃতীয় দফার স্ক্রিনিংয়ের সময় চতুর্থ ধাপের ক্যান্সার শনাক্তের হার ২৬ শতাংশ কমেছিল।
পজিটিভ ফল নিয়ে উদ্বেগ
চিকিৎসক ও গবেষকদের কেউ কেউ পরীক্ষার পজিটিভ ফল পাওয়ার পর রোগীর উদ্বেগ এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
মায়ো ক্লিনিক কমপ্রিহেনসিভ ক্যান্সার সেন্টারের রেডিয়েশন অনকোলজির অধ্যাপক আদেল চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের টিউমার থেকে রক্তে খুব অল্প সংকেত ছড়ায়। ফলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার শনাক্ত করা জৈবিক ও প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, কোনো স্ক্রিনিং পরীক্ষাই শতভাগ নির্ভুল নয়। একটি পজিটিভ ফলের পর ব্যয়বহুল আরও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
মায়ো ক্লিনিকের অনকোলজিস্ট ও গ্রেইলের ‘পাথফাইন্ডার ২’ গবেষণার প্রধান গবেষক কার্তিক গিরিধর বলেন, এফডিএ অনুমোদন ও স্বাস্থ্যবিমার আওতায় এলে নিজ খরচে পরীক্ষা করাতে সক্ষম মানুষের বাইরেও আরও বেশি মানুষের কাছে এ পরীক্ষা পৌঁছাতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের স্ক্রিনিং শেষ পর্যন্ত ক্যান্সারে মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে পারে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
এমপি/ আরআই