শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:৫৩, ০৩-১০-২০২৬ | আপডেট: ১:৫৮, ০৩-১০-২০২৬
ছবি: মেডিকেল পোস্ট
শনিবার (৩ অক্টোবর) ডব্লিউএইচওর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি রেইনহিল্ডে ভ্যান ডি ভির্ডট বলেন, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সময়মতো পৌঁছানো না গেলে তা মানুষের জীবন রক্ষায় কোনো কাজে আসে না। তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের ক্ষেত্রে চাপ কমানোর আহ্বান জানান।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, অনুমোদিত ত্রাণ বর্তমানে শুধু দক্ষিণ গাজার কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে পারে। রাফাহ সীমান্ত দিয়ে সীমিতসংখ্যক মানুষের চলাচল হচ্ছে, যার মধ্যে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীরাও রয়েছেন।
ভ্যান ডি ভির্ডট বলেন, চিকিৎসাসামগ্রীকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় এসব সামগ্রী বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত চিকিৎসা উপকরণ।
তিনি জানান, গত ছয় মাসে কৃত্রিম অঙ্গ ও সহায়ক চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি চালান চারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তার ভাষায়, প্রতিটি প্রত্যাখ্যানের অর্থ হলো এমন একজন মানুষের জন্য আরও অপেক্ষা, যিনি ইতোমধ্যে একটি অঙ্গ হারিয়েছেন এবং আবার হাঁটার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
তবে ওষুধের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে। ডব্লিউএইচওর হিসাবে, প্রায় ৮৭ শতাংশ ওষুধের চালান অনুমোদন পেয়েছে এবং মাত্র ১ শতাংশের কিছু বেশি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
গাজায় মানবিক ও স্বাস্থ্যসামগ্রী বাধাহীন ও পূর্বানুমানযোগ্যভাবে প্রবেশের পাশাপাশি একাধিক সীমান্তপথ চালুর আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। বর্তমানে কিসুফিম, গেট ৯৬, এরেজ ও এরেজ ওয়েস্ট—এই চারটি প্রধান প্রবেশপথ বন্ধ রয়েছে এবং ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে আছে।
ডব্লিউএইচওর ফিলিস্তিন প্রতিনিধি বলেন, শীত শুরু হওয়ায় গাজায় চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জরুরি প্রয়োজন আরও বেড়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে। ঠান্ডা ও বন্যার ঝুঁকির কারণে তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়ছে।
নিরাপদ আশ্রয় ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগারগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এসব রোগের ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজা সিটিতে জমে থাকা কঠিন বর্জ্যও গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রায় ১২ মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও অন্যান্য সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ওসিএইচএর মতে, অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতি এখনো ‘অত্যন্ত সংকটপূর্ণ’।
এমপি/ আরআই